
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খাইবার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এক বিশাল যৌথ অভিযানে বড় ধরণের সাফল্য এসেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর নিশ্চিত করেছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ২২ জন ভারত সমর্থিত বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পালানোর সময় বিদ্রোহীদের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছর বয়সী এক শিশু।
অভিযানের বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বা ভারত সমর্থিত বিদ্রোহীদের অবস্থানের খবর পেয়েই এই সুনির্দিষ্ট অভিযানটি চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। নিহত বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে খাইবার জেলায় আর কোনো ‘খারেজি’ বা বিদ্রোহী আত্মগোপন করে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বড় ধরণের চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।
সন্ত্রাসবাদ দমনে ‘আজম-এ-এস্তেহকাম’
পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের ‘আজম-এ-এস্তেহকাম’ ভিশনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, অভিযানে নিরপরাধ শিশুর আত্মত্যাগ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে বাহিনীর মনোবলকে আরও দৃঢ় করবে।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও সামরিক পাল্টা জবাব
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ শুরু করেছিল। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, “ওই অভিযানে প্রায় ৭৯৬ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে সহস্রাধিক যোদ্ধা আহত হয়েছে এবং আফগান তালেবান শাসনের ২৮৬টি চেকপোস্ট ধ্বংস ও ৪৪টি দখল করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।”
সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য যে, গত অক্টোবর মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত অবস্থানে উসকানিমূলক হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, সেই সংঘর্ষে ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছিল এবং কর্তব্যরত অবস্থায় ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য শাহাদাতবরণ করেন। বর্তমানে খাইবার জেলায় পরিচালিত এই সর্বশেষ অভিযানটি সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও কঠোর প্রচেষ্টারই অংশ।
সূত্র: পাকিস্তান টুডে