
পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। মিরান শাহ ও এর পার্শ্ববর্তী দুর্গম অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ও নিবিড় গোয়েন্দা অভিযানে চার শীর্ষ কমান্ডারসহ মোট ২১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টা ধরে ওই অঞ্চলে জঙ্গি ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ও তুমুল বন্দুকযুদ্ধ চলে। নিহত সব সন্ত্রাসীই ভারত-সমর্থিত 'ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ' নামক গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য, যা বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামে সুপরিচিত।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামের চারজন দুর্ধর্ষ শীর্ষ কমান্ডার রয়েছে। মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এই শীর্ষ জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। এই সফল অভিযানের ফলে স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কটি কার্যত কোমর ভেঙে পড়েছে এবং বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
সামরিক বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান এই বিশেষ অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কৌশল ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের অধীনে পরিচালিত এই কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসদমন অভিযান অঞ্চল থেকে শেষ জঙ্গিটিকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এদিকে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এমন অভাবনীয় ও বড় সাফল্যের পর যৌথভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
যৌথ অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বলেন, "ভারত-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় অর্জন। পুরো জাতি আমাদের সাহসী সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে।"
একই সুরে সুর মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্তব্য করেন, "আজম-ই-ইস্তেকাম ভিশনের অধীনে সেনাবাহিনী একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।"
সেনাবাহিনীর জোয়ানদের বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে স্যালুট জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "জনগণের সমর্থন নিয়ে সন্ত্রাসী ও তাদের দোসরদের চিরতরে নির্মূল করা হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের এই মেগা অপারেশন শুরুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত শুক্রবার লাক্কি মারওয়াত ও বাজৌরে দুটি পৃথক নৃশংস বোমা বিস্ফোরণে আট বছরের এক मासूम শিশুসহ অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এর মধ্যে লাক্কি মারওয়াতের একটি মসজিদের পাশে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলায় দুজন এবং বাজৌরে আইইডি (IED) বিস্ফোরণে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরপরই কোমর বেঁধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের কাউন্টার-টেররিজম ফোর্স।