
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের কৌশলের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, নাবিল ও ওরিয়ন গ্রুপসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বাইরে গিয়েছে। এই অর্থ উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে, সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। আদালত এ পর্যন্ত ৭০,৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে দেশে ৫৭,১৬৮ কোটি এবং বিদেশে ১৩,২৭৮ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, ১৫টির চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
সংসদে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ মার্চ থেকে ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন ও ১৫টি ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে ৩৭,৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সহায়তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে, তাই মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হবে না। বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অর্থ ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং এজন্য সব আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।