
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নগরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠনসহ একাধিক সাংগঠনিক ও কাঠামোগত উন্নয়ন দাবি করেছে পুলিশ বাহিনী। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৃথক ইউনিট, এভিয়েশন পুলিশ গঠন, বিদেশে লিয়াঁজো অফিসার নিয়োগ এবং লজিস্টিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাবও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কারণে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও বগুড়াকে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, এসব শহরে ট্রাফিক জট, মাদক, কিশোর অপরাধ এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের বর্তমান কাঠামো পর্যাপ্ত নয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আকাশপথে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে একটি পৃথক এভিয়েশন পুলিশ ইউনিট গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। পার্বত্য এলাকা, চর, হাওর এবং দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে পুলিশ লিয়াঁজো অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অর্থপাচার মোকাবিলায় এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করবে।
এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়বে বলে দাবি করা হয়।
অবকাঠামো ও যানবাহন সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাহিনীর যানবাহন ঘাটতি ও অচল গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি থানায় পর্যাপ্ত পেট্রোল গাড়ি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবছর যানবাহন ক্রয়ে নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলে নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স, পুলিশ পরিবারের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন প্রকল্প সম্প্রসারণের দাবিও ওঠে।
অনুষ্ঠানে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র ইউনিট গঠনের প্রস্তাবকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপরাধ বাড়ায় আলাদা কাঠামো ছাড়া কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো পর্যায়ক্রমে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।