
একটি ডাইং কারখানা গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের জমি বিক্রি করেছিলেন সুখন চৌধুরী (৫০)। কারখানা কেনার কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫০ লাখ টাকা নরসিংদী শহরের ভাড়া বাসার আলমারিতে রেখে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। ছয় দিন পর ফিরে দেখেন, ঘরের সবকিছু তছনছ। আলমারি ভেঙে চুরি হয়েছে কারখানা কেনার জন্য জমানো ৫০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার।
নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকার নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ চুরির ঘটনা ঘটে। গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন সুখন। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরের ইভা ডাইংয়ে কাজ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গুহিয়ালা গ্রামে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
সুখন চৌধুরী বলেন, ‘একটি ডাইং কারখানা করার জন্য গ্রামের জমি বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা এনে বাসায় রেখেছিলাম। ডাইং কেনার কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীর গয়নাগুলোও সেখানে ছিল। আমরা বাসায় না থাকায় গত ছয় দিনের মধ্যে কোনো একসময় সব চুরি করে নিয়ে গেছে। একটি ডাইং করার সারা জীবনের স্বপ্নটা চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে।’
সুখনের স্ত্রী পূরবী পণ্ডিত বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত রোববার দুপুরে বাসায় তালা দিয়ে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে যান। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ফিরে দেখেন, চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খোলা যাচ্ছে না। তালা কাটার পরও দরজা না খোলায় তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে বাসার পেছনে গিয়ে জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পান।
স্থানীয়দের সহায়তায় কাটা গ্রিল দিয়ে ভেতরে ঢোকেন সুখন। পরে তিনি ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দিলে পরিবারের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁরা দেখেন, ঘরের আসবাব ও জামাকাপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং আলমারি ভাঙা। পরে আলমারিতে রাখা আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫০ লাখ টাকা খুঁজে পাননি তাঁরা।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।