
কারাগারের চার দেয়াল আর আইনি সময়ের বেড়াজালে আটকে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেও জানাজায় শরিক হতে পারলেন না ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও গৌরীপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মজিবুর রহমান। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সীমিত সময়ের মধ্যে এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় জানাজা মিস করলেও মায়ের দাফন কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে আবারও বন্দিশালায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মজিবুর রহমানের ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা হাজেরা খাতুন গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক বাজার পশ্চিম মহল্লার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জননীর শেষ বিদায়লগ্নে উপস্থিত থাকার আকুলতা থেকে মজিবুরের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মোট তিন ঘণ্টার জন্য সাময়িক মুক্তি মঞ্জুর করেন।
তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় মজিবুর রহমান যখন নিজ এলাকায় এসে পৌঁছান, ততক্ষণে জানাজার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায় এবং তা সম্পন্ন হয়ে যায়। জানাজা না পেলেও তিনি মায়ের দাফন প্রক্রিয়ায় সরাসরি শরিক হন। এ সময় মায়ের নিথর দেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সাবেক ছাত্রনেতা।
মায়ের দাফন শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতি করলে জেল খাটতে হয়, তা নিয়ে আমার দুঃখ নেই। কিন্তু আফসোস একটাই, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর আমি ঢাকায় ছিলাম। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে বাড়িতে আসার পরই গ্রেফতার হই| শেষ সময়ে মায়ের সেবা করতে না পারার কষ্ট আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ‘আদালতের নির্দেশে তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি শেষে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে মজিবুর রহমান অভিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর নিজ বাসভবনের সম্মুখভাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকেই তিনি ওই রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।