
রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে স্কুলছাত্র অপহরণের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অপহৃত আফনান সাঈদকে দ্রুত উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম ২৪, ইফফাত ইয়ামিন ওরফে লিখন ২৩, হাসান আল বান্না ওরফে হাসান ২০ এবং মুস্তাকিমুর রহমান ওরফে কুঞ্জ ২১।
রমনা মডেল থানার বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে শান্তিনগর মোড়ের আল মদিনা প্যালেসের বাটা শোরুমের সামনে যায় ওই ছাত্র। এ সময় গ্রেপ্তারদের একজন কৌশলে তাকে চামিলীবাগের একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরে অপহরণকারীরা ছাত্রের বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ করে একটি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠাতে বলে এবং মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। উপায়ান্তর না দেখে সচিবালয়ে কর্মরত ওই বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এরপর রমনা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করে অপহৃত ছাত্রকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, আটক ব্যক্তিরা এর আগে আরও ছয়টি অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা পরস্পরের যোগসাজশে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।