
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বর্ণ ও প্রসাধনীর কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে স্বর্ণের পাশাপাশি বিদেশি লিপস্টিক, লোশন, ফেস ক্রিম, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। তিনি দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহ দিতে প্রসাধনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের মূল্য হ্রাস পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্বর্ণ আমদানির ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।
শুধু স্বর্ণ ও প্রসাধনী নয়, নতুন বাজেটে শিশুখাদ্য, মসলা, সার, কীটনাশক, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্রিজের কম্প্রেসার এবং দেশীয় মোবাইল ফোন শিল্পসহ বেশ কয়েকটি খাতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
অন্যদিকে আগামী অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমানোর এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভোক্তারা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যহ্রাসের সুফল পেতে পারেন। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।