
সদ্য শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে মোটাদাগে লড়াই হয়েছে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে। যদিও ভোটের লড়াইয়ে বেশির ভাগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রার্থীকে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। ট্রেজারি চালান, তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডারের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়।
আইন বলছে, কোনো আসনে মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত ন্যূনতম জনসমর্থন প্রমাণে ব্যর্থ হলে প্রার্থী জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পান না। প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ২৫ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ পরিমাণ ১০ হাজার টাকা।
পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী জামানতের হার নির্ধারিত। অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকায় ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকায় ৩০ হাজার টাকা জমা রাখতে হয়। কাউন্সিলর পদে জামানত পাঁচ হাজার টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে এক হাজার টাকা জামানত নির্ধারিত রয়েছে।
নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশন বাজেয়াপ্ত হওয়া জামানতের তালিকা প্রস্তুত করে। পরে অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। আর যেসব প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন, তারা গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন কোনো পরিসংখ্যান নেই—জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হয়েও শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী সেই অর্থ উত্তোলন করেন।