
রেকর্ড পরিমাণ অজনপ্রিয়তা আর দলের অভ্যন্তরে তীব্র বিদ্রোহের মুখে যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগের এই ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন বলে এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে দাবি করেছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’।
লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান এই অস্থিরতার মধ্যেই মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে নীতিগতভাবে রাজি হলেও তা করতে চান সম্পূর্ণ ‘নিজের শর্তে’।
মর্যাদার সাথে বিদায়ের খোঁজে স্টারমার
ডেইলি মেইলের ওই সূত্রটি জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা ও সংকটের গভীরতা বুঝতে পারছেন এবং এটি যে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তাও অনুধাবন করছেন। তবে তিনি একবারে কোণঠাসা হয়ে নয়, বরং মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে চান। আর এই বিদায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তিনি শিগগিরই একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
কেন এই খাদের কিনারে লেবার সরকার?
সাধারণ ভোটারদের ক্রমাগত ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। মূলত পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং কুখ্যাত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর ওপর সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির আশঙ্কাজনক ভরাডুবি—সব মিলিয়ে চারদিক থেকে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
লেবার সরকারের কফিনে সর্বশেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। নিজের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে শনিবার এক প্রকাশ্য ভাষণে স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে তিনি স্টারমারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’ করারও আহ্বান জানান।
ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী
রাজনৈতিক এই গোলযোগের সমান্তরালে সাধারণ জনগণের কাছে কিয়ার স্টারমারের গ্রহণযোগ্যতা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘ইউগোভ’ (YouGov)-এর সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬৯ শতাংশ নাগরিক লেবার দলীয় এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তীব্র “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
ইউগভ তাদের বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করেছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। ব্রিটেনের সচেতন মহলের অনেকেই তাঁর এই নড়বড়ে অবস্থাকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের সেই নজিরবিহীন ও বিপর্যয়কর শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করছেন।