
জনপ্রিয় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্যে মানগত ত্রুটি, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পাওয়ার পর সেগুলো অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) বিএসটিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ছাড়া কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ (টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট) নির্ধারিত মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
প্রসাধনী পণ্যের মধ্যে অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের পাঁচটি পণ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ‘মোরিংগা+মাচা’ ফেসওয়াশ, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পু।
অন্যদিকে ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ফ্লেভারের সফট ড্রিংক পাউডারে নির্ধারিত মানের তুলনায় কম পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে।
এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বিএসটিআই আরও জানিয়েছে, নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের লোগো, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ হলে বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানাতে অনুরোধ করেছেন।