
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ সীমিত করতে নতুন ভিসা নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর ফলে এতদিনের প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল হয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থান অনুমতি কার্যকর হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট নতুন বিধিমালার পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এখন এটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। নীতিমালা কার্যকর হলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমাভিত্তিক অবস্থান ব্যবস্থা চালু করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে এশিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এফ-ওয়ান ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা যতদিন তাদের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং ভিসার শর্ত মেনে চলেন, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দেশটিতে প্রবেশের সময়ই তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ না হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় মূলত এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থী, জে ক্যাটাগরির এক্সচেঞ্জ ভিজিটর, আই ভিসাধারী সাংবাদিক এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানসীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। এরপরও শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হলে বাধ্যতামূলকভাবে এক্সটেনশনের আবেদন করতে হবে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যে নমনীয়তা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেসব সুযোগও আরও সীমিত ও কঠোর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস