
ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরে শরিফুল ইসলাম (২৪) নামের এক তরুণ ব্যাংক কর্মীর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে পৌর এলাকার শিলাসী মাজারবাড়ি সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের ঘর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শরিফুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া সদরের দক্ষিণ আন্দারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হানের সন্তান। তিনি গফরগাঁও ন্যাশনাল ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের এই পরিচ্ছন্নতা কর্মী শিলাসী মাজারবাড়ি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মজিবর রহমানের পাঁচতলা বাড়ির ছাদের একটি কক্ষে গত প্রায় দুই বছর ধরে একা বসবাস করে আসছিলেন। সোমবার সকাল হয়ে গেলেও শরিফুল কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাড়ির মালিক মজিবর রহমানকে ফোনে বিষয়টি জানান এবং শরিফুলের খোঁজ নিতে বলেন। ফোন পেয়ে বাড়ির মালিক ছাদের ঘরে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিশেষ উপায়ে দরজা খোলেন এবং শরিফুলকে ফাঁসের সাহায্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক প্রহরে শরিফুল ঘরের ভেতর রশিতে ঝুলে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে গফরগাঁও ন্যাশনাল ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক রেদওয়ান হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "শরিফুল কোনো মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। ধারণা করছি মান অভিমানের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সঠিক তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
তদন্তের দায়িত্বে থাকা গফরগাঁও থানার এসআই সিদ্দিক বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে জানান, "ছেলেটির বয়স অল্প। প্রেম সংক্রান্ত কোনো ব্যাপার থাকতেও পারে। তদন্ত চলছে।"
পুরো আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"