
মানসিক ভারসাম্যহীন, অপরিচিত ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ভারতের সীমান্তঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় বারবার চরম বিব্রতকর ও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই ধরনের সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় সিভিল প্রশাসনও। অনুপ্রবেশ বা পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত জুড়ে তৈরি হচ্ছে তুমুল উত্তেজনা।
গত বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু করে শনিবারের মধ্যে সীমান্ত রেখা ও এর সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কমপক্ষে ১০ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষের উপস্থিতি ঘিরে একের পর এক নানা নাটকীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন, বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে পর্যায়ক্রমে তিনজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অতর্কিত উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিজিবি, বিএসএফ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দফায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশের এই খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ছাড়াও কৌতূহলী প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা সবাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি আটককৃতদের ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে আরও একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর উদঘাটিত হয় যে, ওই ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো পুশইন কিংবা বাংলাদেশের পুশ-ব্যাকের শিকার নন। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে যাযাবরের মতো বসবাস করে আসছেন।
সবশেষ শনিবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের কাউনিয়ারচর বাজারে ভারতীয় নাগরিক সন্দেহে দুজনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। এই আটকের পর পরই পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধে। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাদের পরিচয় ও ঠিকানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবং অপরজনও এ দেশেরই বাসিন্দা। মূলত তারা দুজনেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
সীমান্তের এই সংবেদনশীল ও পুনরাবৃত্তিমূলক সংকট নিরসনে জামালপুর ৩৫ বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান হাসান বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় সমাজ সেবা অফিস আছে। সমাজ সেবা অফিস যদি তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনসাধারণকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।”