
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল করতে সব ধরনের জ্বালানি কর স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ভিয়েতনাম।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেট্রোল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের ওপর থেকে পরিবেশ সুরক্ষা কর ও বিশেষ ব্যবহার কর সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ভিয়েতনামের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কর স্থগিতের ফলে দেশটির সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৭.২ ট্রিলিয়ন ডং বা ২৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রাজস্ব আয় কম হবে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে নাগরিকদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভিয়েতনামের শীর্ষ জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোলিমেক্স’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে পেট্রোলের দাম ২১ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম অবিশ্বাস্যভাবে ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে হানোয়সহ দেশটির বড় শহরগুলোতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল যাতে জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। ভিয়েতনামের অর্থনীতি যেহেতু আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা দেশটিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনাম সরকারের এই কর মওকুফের সিদ্ধান্তটি বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলেও এটি কেবল সাময়িক সমাধান মাত্র। যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকে, তবে ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পক্ষে দীর্ঘ সময় এই ভর্তুকি বা কর মওকুফ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভিয়েতনামী মুদ্রার মান ২৬ হাজার ৩৪৮ ডং-এ দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির আমদানি ব্যয়কেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকলেও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স