
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কথিত ভূয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে মূল্যবান জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবারের সদস্য মো. শামীম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তারা তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানাকান্দি গ্রামের মৃত মো. ছাদেক ও মৃত জুলেখার বৈধ ওয়ারিশ। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান মিয়ার কাছ থেকে তারা ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই প্যানেল চেয়ারম্যান ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন শাহিনকে একই ওয়ারিশদের তথ্য ব্যবহার করে, তবে দাদার নাম পরিবর্তন করে আরেকটি ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন। এছাড়া ঠিকানা পরিবর্তন করে সোনাপুর ইউনিয়ন থেকে আরও একটি ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি করেন তারা।
শামীমের অভিযোগ, পরবর্তীতে একাধিকবার সংশোধন, বাতিল ও নতুন প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এতে তারা বারবার হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি এবং আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কথিত ভূয়া ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে আদালত থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংগ্রহ করে প্রভাব খাটিয়ে মনপুরা উপজেলার গোয়ালিয়া মৌজার ১০৭৪ নম্বর খতিয়ানের ৩২১০ নম্বর দাগে তাদের পিতার নামে বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ১ একর ৫০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করেন তারা।
এ সময় শামীমের ভাই নিজাম উদ্দিন আমজাদ ও তানভীর হাসান, বোন আমেনা বেগম নাজরিন, শিপন আক্তার, মোর্শেদা আরজু ও শিরিনসহ অন্যান্য ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ভূয়া ওয়ারিশ সনদের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।