.png)
চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে এসে গ্রহটিকে যেন বিশাল অন্ধকারে ভাসমান একটি “লাইফবোট” মনে হয়েছে—এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারীরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) অভিযান শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, জেরেমি হ্যানসেন এবং ক্রিস্টিনা কোচ।
ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “আমাকে শুধু পৃথিবী নয়, এর চারপাশের অন্ধকারটাই বেশি বিস্মিত করেছে। সেই অন্ধকারে পৃথিবী ছিল নিঃশব্দে ঝুলে থাকা একটি লাইফবোট।” তিনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি অভিন্ন মানবতাকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
প্রায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের চারপাশে ‘স্লিংশট’ কৌশলে ঘুরে এসেছে। এই ভ্রমণকে মানব ইতিহাসের অন্যতম গভীর মহাকাশ অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে গত শুক্রবার নভোচারীদের বহনকারী ক্যাপসুল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নিরাপদে অবতরণ করে।
এই অভিযানে একাধিক ঐতিহাসিক অর্জন যুক্ত হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করেন। ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেন। আর জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী হিসেবে এই অভিযানে অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে নভোচারীরা হাজার হাজার ছবি ধারণ করেন এবং সূর্যগ্রহণ ও চাঁদের পৃষ্ঠে উল্কাপাতের বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “আর্টেমিস-২ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা আবার চাঁদকে নতুনভাবে দেখেছি।”
আর্টেমিস-২ অভিযানটি চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার কর্মসূচির প্রথম মানববাহী ধাপ। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের পদচারণা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।