
মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের কারণে সাধারণত গ্যালাক্সীগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। বিজ্ঞান বহু বছর আগেই এই তথ্য আবিষ্কার করেছে। তবে এর একটি ব্যতিক্রমও আছে। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের নিজেদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সী। এখানে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে যেন চলছে এক মহাজাগতিক নাচ।
সাধারণত গ্যালাক্সীগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে গেলেও আমাদের সবচেয়ে কাছের বৃহৎ গ্যালাক্সী এন্ড্রোমিডা বেশ দ্রুত গতিতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। এটি বর্তমানে ২.৫ মিলিয়ন লাইট ইয়ার দূরে অবস্থান করছে। কিন্তু কেন এই ব্যতিক্রম? আর এতে আমাদেরই বা ঝুঁকি কতখানি।
গবেষকরা জানান, এন্ড্রোমেডার ক্ষেত্রে মহাজাগতিক সম্প্রসারণের প্রভাব কম; এটি আমাদের থেকে মাত্র ৫৫ কিমি/সেকেন্ডের হারে দূরে সরার চেষ্টা করছে। কিন্তু মিল্কিওয়ে এবং এন্ড্রোমিডার মধ্যে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টান কাজ করছে, যা এটিকে আমাদের দিকে ১৬৫ কিমি/সেকেন্ড হারে টেনে আনে।
সরল হিসাব করলে নেট গতিবেগ দাঁড়ায় ১১০ কিমি/সেকেন্ড। তাই এন্ড্রোমিডার আলো আমাদের দিকে আসার সময় ‘ব্লু শিফট’ বা নীলাভ আলোক তরঙ্গের সংকোচন দেখা যায়।
অন্যদিকে, আরও দূরের গ্যালাক্সী যেমন ট্রায়াঙ্গুলাম (এম৩৩) এবং কিছু ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সী প্রায় ৫ মিলিয়ন লাইট ইয়ার দূরে। সম্প্রসারণ তাদেরকে প্রায় ২২০ কিমি/সেকেন্ড গতিতে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, আর দূরের আরও গ্যালাক্সীর ক্ষেত্রে এই দূরত্ব আরও বেশি। একই সঙ্গে, গ্র্যাভিটেশনাল টান অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই দূরের গ্যালাক্সীগুলো ক্রমশ আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
তবে এই ঘটনায় পৃথিবীবাসীর শঙ্কিত হবার কোনও কারণ নেই। বর্তমানে তো নয়ই, এমনকি নিকট ভবিষ্যতেও মিল্কিওয়ের সঙ্গে এন্ড্রোমিডার সংঘর্ষ ঘটার কোনও সম্ভাবনা নেই। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষ ঘটতে পারে প্রায় ৪-৫ বিলিয়ন বছরের মধ্যে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে গ্র্যাভিটি জয়ী হলে গ্যালাক্সী কাছে আসে, কিন্তু দূরের মহাজাগতিক দূরত্বে স্পেস এক্সপ্যানশনই প্রধান শক্তি। এই দুই শক্তির সংমিশ্রণ আমাদের চোখে মহাজাগতিক নাটক হিসেবে দেখা যায়- এন্ড্রোমেডা কাছে আসছে, অন্য গ্যালাক্সী দূরে সরে যাচ্ছে।