
আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। রোমাঞ্চকর ফাইনাল জয়ের পর দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স, আত্মত্যাগ এবং ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্প্যানিশ প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল বজায় রেখে লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় রাখাই ছিল স্পেনের বিশ্বজয়ের মূল চাবিকাঠি।
ফাইনাল যুদ্ধ শেষে ইতালীয় গণমাধ্যম রাই স্পোর্ত-এর মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে জানান, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই স্পেন নিজেদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি বজায় রেখেছিল এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছে।
বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন,
"আমরা দারুণ একটি বিশ্বকাপ খেলেছি এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শিখেছি। ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেছি। আফসোস, ম্যাচটি আরও আগেই জিতে নিতে পারিনি। তবে এমন বড় ম্যাচে জয় পাওয়া কখনোই সহজ নয়। ত্যাগ স্বীকার করে অর্জিত জয়ই সবচেয়ে মূল্যবান।"
ফাইনালে স্প্যানিশদের প্রধান রণকৌশল ছিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে স্থবির করে দেওয়া। দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানান, মাঠের নিয়ন্ত্রণে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেই তারা মেসিকে বিপজ্জনক অঞ্চলগুলো থেকে দূরে সরাতে সমর্থ হন।
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বলেন,
"আমরা বলের দখল ধরে রেখে মেসিকে খেলা থেকে দূরে রাখতে পেরেছি। আমরা সত্যিই দারুণ কাজ করেছি। পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল অসাধারণ।"
স্প্যানিশ কোচের মতে, এই বিশ্বকাপ জয় কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্বের ফল নয়; বরং পুরো স্কোয়াডের সম্মিলিত শক্তিরই প্রতিফলন। সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টে তিনি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল পরিচালনা করেছেন, যেখানে প্রদেয় দায়িত্ব সম্পর্কে প্রতিটি ফুটবলার ছিলেন সমান সচেতন।
খেলোয়াড়দের অসামান্য নিবেদনের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে যোগ করেন,
"আমার দলে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা বিশ্বের সেরা। তারা কঠিন বিষয়গুলোও সহজ করে তোলে এবং সবসময় শতভাগ নিবেদন নিয়ে খেলে। আমাদের সেরা দল ছিল। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে ভীষণ গর্বিত।"
কৌশলগত মানসিকতা, দলগত একতা এবং ফুটবলারদের সর্বোচ্চ ত্যাগের ওপর ভর করেই মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে স্পেন। বিশেষ করে বল পজেশন ধরে রেখে মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার স্প্যানিশ মাস্টারপ্ল্যানই দিনশেষে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।