.jpg)
মোরগের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে আল্লাহর নাম। মোরগটি বারবার শুধু আল্লাহ, আল্লাহ বলে ডাকছে। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহর নাম ধরে ডাকা মোরগটিকে দেখতে ভীড় করেছে আশেপাশের এলাকার মানুষ।
শপাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড পুন্ডুরিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পরে অবশ্য মোরগটি বিক্রি করে দেন মালিক। আর যিনি কিনেছিলেন তিনি মোরগটি জবাই করে খেয়েছেন।
জানা গেছে, দেশী ওই মোরগটি দীর্ঘদিন বাড়িতে পালন করছিলেন পুন্ডুরিয়া গ্রামের রহিম শেখ এর ছেলে সাব্বির শেখ। মোরগটিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রান্নার জন্য ধরলে ঠিক তখনই মোরগের কণ্ঠে আকস্মিক শোনা যায় আল্লাহ, আল্লাহ ডাক। মোরগের জিকির করা দেখে অবাক হন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মোরগটিকে দান করে দেন সাব্বির। মোরগটিকে ৫শ টাকা দরে ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেছেন মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী। অন্যান্য মোরগ-মুরগীর ডাক স্বাভাবিক থাকলেও এই মোরগটির কণ্ঠস্বর অন্যরকম। ঠিক মানুষের মতোই মোরগটি উচ্চ স্বরে আল্লাহ আল্লাহ করে ডাকছে! বিস্মিত পরিবারের দাবি, এটি সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কুদরত।
সাব্বির জানান, জীবনে কত হাঁস, মুরগী, কবুতর পালন করেছেন সবাই। কিন্তু কখনো এমন ডাক শোনেননি। মোরগের কন্ঠে আল্লাহর নাম শুনে অবাক হয়েছেন সবাই। আমি জবাই করা বাদ দিয়ে অনেকটা ভয়ে পুন্ডুরিয়া মাদ্রাসায় দান করে দিয়ে এসেছি, তারা কি করেছে আমার জানা নাই।
পুন্ডুরিয়া দ্রাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল ওয়াদুত জানান, সাব্বির নামের ঐ ছেলেটা একটি মোরগ দান করে দিয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। মোরগটিকে আমাদের নাইডগার্ড আব্দুল করিম প্রামানিক ৫শত টাকা দাম ধরে ক্রয় করে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। তবে সে জানতো না যে মোরগটি আল্লাহ, আল্লাহ বলে ডাকে। আমরা পরে ভিডিওতে দেখলাম। এ বিষয়ে ইসলাম ধর্মে কোন হাদিস আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পাঁচুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন বেলালী বলেন, ইসলাম ধর্ম মতে কেয়ামতের যেসব আলামত রয়েছে তাদের মধ্যে একটি হলো কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে প্রাণী এবং জড় পদার্থ মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন মানুষকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনি চাইলে অন্যান্য সৃষ্টি জীবকেও কথা বলার ক্ষমতা দিতে সক্ষম।
তবে সচেতন মহলের ধারণা, মোরগটির গলার স্বর কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় স্থানীয় মানুষের ধর্মবিশ্বাসের সাথে গুজব মিলেমিশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেননা বিশেষ জাতের কয়েকটি পাখি ছাড়া, অন্য কোনো পক্ষী জাতীয় প্রানীর কথা বলা বা মানুষের শব্দ নকল করার ক্ষমতা নেই।