
ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে গত মাসে সন্দেহভাজন নাশকতার ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে ইরানের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের একজন ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক। অন্যজনের বয়স ২৫ বছর এবং তিনি যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার সন্দেহে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে পুলিশ তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লরেন্স টেলর এক বিবৃতিতে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তাদের মধ্যে দুজনকে আবারও হেফাজতে নেওয়া হয়।
টেলর বলেন, তদন্তকারীরা এখনো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। তবে এ ঘটনায় ইরানি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
বিমানঘাঁটির কাছে অভিযান, বাসিন্দাদের স্থানান্তর
ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনী ব্যবহার করে আসছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ঘাঁটিটির আশপাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও বিস্ফোরকসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে প্রথম পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
সেসময় ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণে নিয়োজিত সেনাসদস্য ও পুলিশ অভিযান চালান। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটির আশপাশের বেসামরিক বাসিন্দাদেরও বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে কথিত হামলার পরিকল্পনাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়ে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। তবে তেহরান এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কাজ করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে আগেই ছিল তথ্য
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগেই বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করে ইরানি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা।
তদন্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ফেয়ারফোর্ডের এক নারী সিএনএনকে জানান, নিজের বাড়ির প্রবেশপথে তিনি তিনটি ভ্যান দেখতে পান। সেখানে মুখোশ পরা আট থেকে ১০ জন ব্যক্তি ছিলেন। তারা তার বাড়িতে ঢোকার পথ আটকে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি পুলিশকে ফোন করেন।
স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ওই নারীকে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তার ভাষ্য, ওই নারী পুরো ঘটনার পরিবর্তে এর একটি অংশ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অজ্ঞাত হুমকির পর সরানো হয় বোমারু বিমান
ঘটনাটি নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে গত ৪ অক্টোবর ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূরপাল্লার বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি হুমকির পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানগুলো অন্যত্র সরানো হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিমানগুলো ঘাঁটি ছেড়ে যায়নি। সম্ভাব্য হুমকির মুখে প্রতিপক্ষকে সুযোগ না দিয়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিমানগুলো সরানো হয়েছিল। তবে কী ধরনের হুমকি পাওয়া গিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মঙ্গলবার পর্যন্ত ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বোমারু বিমান ফিরে আসেনি। অন্যদিকে, নাশকতার পরিকল্পনা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।