.jpg)
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সান্ধ্যকালীন আকাশ হঠাৎ এক রহস্যময় দৃশ্যের সাক্ষী হলো। শুক্রবার সন্ধ্যায় দিগন্ত চিরে বয়ে যাওয়া বিশালাকার এক আলোকচ্ছটা মুহূর্তেই সৈকতে উপস্থিত হাজারো পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনার জন্ম দেয়। এই আলোকরেখাকে ঘিরে একদিকে যেমন বিস্ময় কাজ করছে, অন্যদিকে ডানা মেলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
সৈকতে আতঙ্ক ও কৌতূহল
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ঠিক ৭টার দিকে কক্সবাজারের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে অবস্থানরতরা পশ্চিম আকাশে এই বিরল দৃশ্য দেখতে পান। উজ্জ্বল আলোর একটি দীর্ঘ রেখা ধীরে ধীরে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এগিয়ে যাচ্ছিল, যা দেখতে অনেকটা রকেট বা মিসাইল উৎক্ষেপণের পরবর্তী ধোঁয়ার রেখার মতো।
সৈকতে থাকা পর্যটক ইমতিয়াজ সোমেল নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন:
“হঠাৎ করে এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় টেলিভিশনে দেখা মিসাইলের মতো লাগছিল। পরে অবশ্য বুঝতে পারি, এটি কোনো ভিন্ন ধরনের ঘটনা।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল ইসলাম বলেন:
“সবাই মিলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে সেটি দেখেছি। ভয়ের পাশাপাশি এক ধরনের বিস্ময়ও কাজ করছিল।”
আবহাওয়া অফিসের নিরবতা ও ভারতের নোটাম
এই রহস্যময় আলোর উৎস সম্পর্কে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনার সাথে ভারতের সামরিক পরীক্ষার যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটাম)’ জারি করেছিল ভারত। ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে তাদের অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘অগ্নি-৬’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্যই এই সতর্কতা জারি করা হয়।
ভৌগোলিক মিল ও জনমনে জল্পনা
সময় এবং ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কক্সবাজারের আকাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আলোকরেখাটি ভারতের ওড়িশা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথের সাথে মিলে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। শুধু কক্সবাজার নয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রায় সব অঞ্চল থেকেই এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেছে।
যদিও বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই আলোকরেখাটিকে ‘অগ্নি-৬’-এর গতিপথ বলে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও ভারতের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবরের সাথে এর মিল থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি এখন টক অফ দ্য টাউন। সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জন্য এটি ছিল এক অভাবনীয় এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।