
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় মারা গেছে এলাকার সবচেয়ে বড় একটি পুরুষ হাতি। তবে মৃত হাতিটির পাশে আরেকটি হাতি অবস্থান নেওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেও ময়নাতদন্ত শুরু করতে পারছে না বন বিভাগ ও চিকিৎসক দল।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় হাতিটির নিথর দেহ দেখতে পান এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে খাবার ও ওষুধ দিতে গিয়ে তারা হাতিটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু মৃত হাতিটির কাছাকাছি যেতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।
বন বিভাগ জানায়, মৃত হাতিটির পাশে আরেকটি হাতি দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে চিকিৎসকরা মরদেহের কাছে যেতে পারছেন না এবং নমুনা সংগ্রহও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ময়নাতদন্তের কাজ শুরু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছি, কিন্তু অন্য হাতিটি না সরা পর্যন্ত এগোনো সম্ভব হচ্ছে না। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দাঁতবিহীন এই পুরুষ হাতিটির বয়স প্রায় ৬০ বছর ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি জটিল সংক্রমণজনিত রোগে ভুগছিল এবং একাধিকবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা পেয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং নিয়মিতভাবে খাবারের সঙ্গে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের এক কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বয়সের ভার ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য হাতিটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।