
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের পাঠদানের সক্ষমতা যাচাইয়ে ডেমনস্ট্রেশন বা ডেমো ক্লাস যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্যতায় কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে বিদ্যমান নিয়োগ নীতিমালার অধিকাংশ শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানিয়েছেন।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় প্রার্থীদের ডেমো ক্লাসের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এর পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রমে প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকার বিদ্যমান শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
তবে কোনো প্রার্থী স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম হলে স্নাতকোত্তরে প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে স্নাতকে প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও স্নাতকোত্তরে প্রথম হলে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ থাকতে হবে। এ সুবিধা শুধু অনার্স বা মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাক্রমের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
সিন্ডিকেট সূত্র আরও জানায়, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের কারও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্ল্যানিং কমিটি সুপারিশ করতে পারবে। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ থাকবে।
নতুন নীতিমালায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৯ এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের প্রার্থীদের কমপক্ষে ৮ দশমিক ৫ থাকতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ থাকতে হবে। থিসিস গ্রুপের প্রার্থীরাও শিক্ষক নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে রাবিতে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই নীতিমালায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রমে প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকার শর্ত রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের সময়ে নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। বিভিন্ন অনুষদে মেধাক্রমের শর্ত শিথিলের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আবেদনের ন্যূনতম সিজিপিএ কমিয়ে ৩ করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
এবার ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান নীতিমালায় ডেমনস্ট্রেশন, থিসিস গ্রুপ এবং বিদেশ থেকে পিএইচডি করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলো।
এ বিষয়ে রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি শিক্ষক নিয়োগ। শুরু থেকেই প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং গত ১৭ বছরের শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালায় প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল, প্রকাশনা, ডিগ্রি ও ডেমনস্ট্রেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডেমনস্ট্রেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাও একজন শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উপাচার্য আরও বলেন, বিভিন্ন নীতিমালার সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে দুর্বলতাগুলো কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং কোনো প্ররোচনা বা সুপারিশ কাজে আসবে না। প্রার্থীর যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।