
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তাদের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই আওয়ামী লীগের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খান বলেন, শিবির মনে করে তাদের সব নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে আনলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে। যেহেতু জামায়াত বর্তমানে ক্ষমতায় নেই, তাই প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকলে রাজনৈতিক কারণে অনেকেই চাকরির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই সংগঠনটির একটি বড় অংশকে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে রাখা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, শিবিরের আরেকটি অংশ ক্ষমতাসীনদের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে, যাতে তারা প্রভাবের মধ্যে থেকে চাকরি ও অন্যান্য সুবিধা নিতে পারে। তবে সবাইকে প্রকাশ্যে আনলে এসব সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান লিখেছেন, এই নীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বড় ধরনের সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়—কে সাধারণ শিক্ষার্থী আর কে শিবিরের কর্মী, যা একটি বড় সংকট বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকাশ্য রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে শিবিরের উচিত প্রকাশ্য রাজনীতি চর্চা করা। দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন মেধা থাকলে চাকরিতে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা করার পরিবর্তে সারাক্ষণ নব্য ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, সংস্কারবিরোধী তকমা দেওয়া, ১৬ দিনের মধ্যে পতনের হুমকি দেওয়া কিংবা আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা বাংলাদেশের বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে শিবিরকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান লেখেন, সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে হলে তাদেরও সহনশীল হতে হবে। অন্যথায়, যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে। আর লীগ ফিরলে সব হাউকাউ তারাই বন্ধ করে দেবে।