
জাতীয় সংসদে একে অপরকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার মতে ব্যক্তিগত ও দলীয় বিভাজন কমিয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান নিলেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেছেন, 'আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে।'
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার গঠনের সময় জ্বালানি পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে চাচা ডেকেছিলেন; জানি না আমার বয়স তত কিনা। আমি যশোরে তাকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম; আর তিনি যর্থাথই স্মরণ রেখেন- যশোরের ডাব থেকে পানি বের করেই পানি পান করিয়েছিলাম। আমি ঢাকা থেকে নেইনি ওটা। আলহামদুলিল্লাহ তিনি যে মনে রেখেছেন তার জন্য ধন্যবাদ।’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি খুবই পজিটিভ মনে আজ কথা বলেছেন। আমি মনে করি একটি বাস্তবসম্মত একটি বক্তব্য রেখেছেন। শুধু এক জায়গায় হালকা একটু সুই হাতে নিয়েছিলেন। তিনি লজ্জা পেয়েছেন তাই সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই না। চালাক লোকেরা একটা কঠিন গালি দেওয়ার পরে বলেন- আমি গালি দেওয়া পছন্দ করি না। যেটা আমি পছন্দই করি না সেটা আমি করবই না।’
সংসদের আলোচনার ধারা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ সংসদে আমি প্রথমদিনই অনুরোধ করেছিলাম- আসুন আমরা জনকল্যাণে কথা বলি। আমরা পরস্পরকে দোষারোপ না করি- কিন্তু এটা বন্ধ হয়নি। মনে হয় মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। মানে আট মাত্রার ভূমিকম্প না; চার/পাঁচ মাত্রায় এখনো কাঁপচ্ছে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা গঠনমূলক হই। সরকারি দলও গঠনমূলক হোক; আমরাও গঠনমূলক হই। সেইভাবে বিষয়গুলো রিজলভ করি এবং আমরা পারব- কেন পারব না। দুনিয়ার অনেক দেশই তো পারে আমরা কেনা পারব না। আমরা পারার কালচারে যেতে চাই; না পারার কালচারে থাকতে চাই না।’
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ক্রাইসিস (জ্বালানি সংকট)। আমরা আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকারের তৈরি না। কিন্তু ডিমান্ড ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। এ জায়গায় আমরা যদি মুক্ত মন নিয়ে বসতে পারতাম; কথা বলতে পারতাম; যদি কমন প্লাটফর্ম থেকে অ্যাড্রস করতে পারতাম তাহলে মানুষ একটা আস্থার স্থান খুঁজে পেত। আমরা বাস্তবধর্মী অ্যাড্রেস করতাম।’
অসৎ চক্র নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কিছু অসৎ লোক সব সময় সুবিধা নেয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন ক্রাইসিস পরিস্থিত আসে- ওরা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসে থাকে। আমি বলল- সেই লোক আমি হলেও আমাকে ছাড় দেবেন না। জাতির স্বার্থে আমি হলেও আমাকে ধরুন। বরং সাধারণ মানুষের চেয়ে আমাকে আরও বেশি করে এক্সপোজ করে দেন। যারা অসৎ তারা কোনো দলের হতে পারে না। এরা দলের সুবিধা নেয়। দল যদি বিপদে পরে ও সবার আগে পালাবে। এ ধরনের সুযোগ সন্ধানীদের কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ হাউসে বসে আমরা যে ধরনের কথা বলব তা এই প্যারাডাইমের ভেতরে থাকবে না। গোটা দুনিয়ায় চলে যাচ্ছে এটা। তাই কথার মধ্যে ‘ভার’ থাকতে হবে। কথাগুলো সত্য হতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে- আজ একটা বললাম কাল একটা বললাম; তাহলে জনগণ আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না। একই বিষয়ের উপর কথার ধারাবাহিকতা থাকে এবং ময়দানে যে তার প্রয়োগ থাকে। এই দুইটা যখন জনগণ খুঁজে পাবে- তখন আমাদের কোনো স্টেটমেন্ট লাগবে না।’