
দীর্ঘদিনের অনিয়ম আর লাইসেন্স নবায়ন না করার অভিযোগে অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হলো ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল—জেলা প্রশাসনের অভিযানে সিলগালা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল’-এর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এ সময় সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে সেবা না নিয়েই ফিরে যান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম ফাহাদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে একটি পরিদর্শক দল শহরের দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখে। সেখানে সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে শহরের মুক্তবাজার এলাকায় ‘বায়েজিদ হেলথ কেয়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-কে অব্যবস্থাপনার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান বলেন, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। লাইসেন্স না থাকা এবং নানা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, হাসপাতালটির লাইসেন্স ২০১৯ সালের পর আর নবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযানের সময় রোগীদের নিরাপদে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলবে, এবং নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার রাতে শহরের ‘ওয়ান স্টপস মেটারনিটি ক্লিনিক’-এ ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ জুন ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আকিফা সুলতানা (৩৯)-এর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।