
রোজা সামনে, আর এরই মধ্যে বাজারে লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন—মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি পিসে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন মাঝারি আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে বেশি মুনাফার আশায় বাগান মালিক ও আড়তদাররা লেবু মজুত করছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ানো হচ্ছে ইচ্ছেমতো।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে লেবুর মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট ফল আসায় সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এখন সেটিই ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগে একই মানের লেবুর হালি ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে প্রায় চারগুণ।
দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কারওয়ান বাজারের লেবু ব্যবসায়ী মান্নান মিয়া বলেন, “এখন লেবুর ভরা মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল আসছে। কিছু কিছু গাছে ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু লেবু গাছ আছে যেগুলোতে কমবেশি সারা বছরই লেবু হয়। সেগুলোই এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই-তিন দিন ধরে পরিবহন চলাচল সীমিত রয়েছে। এ কারণে বাজারে লেবু কম।”
অন্যদিকে বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে লেবু কিনতে এসে বিস্ময় প্রকাশ করেন ক্রেতা হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, “একটা লেবুর দাম ৩০ টাকা চাচ্ছে। এটা কী মগের মুল্লুক। নাই নাই করে সব সময় রোজার আগে এভাবে দাম বাড়ান লেবু ব্যবসায়ীরা।” রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
লেবুর পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। শুক্রবার সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।