
দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব জায়গায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ-এ হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। ইতোমধ্যে দেশে সাত শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৫০ জনের বেশি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১৬ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে, ফলে দ্রুত টিকাদান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। তারা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বললেও বিলম্ব না করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধাপে হামের টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত কর্মসূচিতে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে এই সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং শহরে সিটি করপোরেশনের টিকাদান কর্মী ও এনজিও কর্মীরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া নির্দিষ্ট সময় পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। দেশে সর্বশেষ এমন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।