
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট : বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি না। রোহিঙ্গারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী না। আমরা বলতে চাই রোহিঙ্গারা মানুষ। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার আছে। রোহিঙ্গারা সংস্কৃতিগতভাবে ও নৃতাত্বিকভাবে ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং সেখানে আন্তর্জাতিক আইনে তারা কিছু প্রটেকশন পাওয়ার অধিকার রাখে।’
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করাই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে নিরাপত্তার দিকটিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও কূটনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে না। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়তে থাকা অপরাধের প্রবণতাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার এগিয়ে যাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
অনুষ্ঠানে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হকের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।
সূচনা বক্তব্য দেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ। আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইশরাত জাকিয়া সুলতানা, দ্য ডেইলি স্টারের কূটনৈতিক প্রতিবেদক পরিমল পালমা, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মোহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল।