
সীমান্তবর্তী অবশিল টেকনাফে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মারাত্মক বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার হ্নীলা জাদিমুড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সংলগ্ন একটি লবণমাঠে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গুলি এবং দুই কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা সটকে পড়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুর ২টায় এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সীমান্তের নাফ নদী সংলগ্ন জাদিমুড়া এলাকার লবণমাঠ থেকে এই বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিবরণ দিয়ে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, "নাফ নদীর ওই লবণমাঠে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর লোকজন বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ এনে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর শনিবার রাতে কোস্টগার্ডের বিশেষ দল অভিযানে নামে। রাত ১০টার দিকে জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শিবিরের পূর্ব পাশে লবণের মাঠের একটি অংশ খুঁড়ে ১০টি গ্রেনেড ও ২৮টি গুলি পাওয়া যায়। গ্রেনেডগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়। অস্ত্রের পাশাপাশি দুই কেজি গাঁজাও উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় অস্ত্র ও মাদক পাচারকারী ব্যক্তিরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পাচারে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।"
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যে খোলা লবণমাঠে এই বিস্ফোরকগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেই পথ দিয়ে নিয়মিত সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে উদ্ধার হওয়া এই শক্তিশালী গ্রেনেডগুলো কোনোভাবে সাধারণ মানুষের হাতে পড়লে কিংবা অসাবধানতাবশত সেখানে বিস্ফোরিত হলে মারাত্মক প্রাণহানি ও জানমালের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।