
এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষকের ঘরে ঘরে ছিল এক জোড়া বলদ আর কাঠের তৈরি লাঙ্গল-জোয়াল। ভোরের আলো ফোটার আগেই গরুর গলায় ঘণ্টা বেঁধে মাঠে ছুটতেন চাষি। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। লাঙ্গল-গরুর চাষাবাদকে হটিয়ে তার জায়গা দখল করেছে আধুনিক পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর।
রবিবার ২৫ অক্টোবর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পাওয়ার টিলারের দাপট। যেখানে এক সময় ৩-৪ দিন লাগতো এক বিঘা জমি চাষ করতে, সেখানে এখন পাওয়ার টিলারে মাত্র এক-দুই ঘণ্টায় হয়ে যাচ্ছে। সময়, খরচ ও শ্রম সবই বাঁচছে।
স্থানীয় কৃষক বাবুল মিয়া জানান, আগে প্রতিটি বাড়িতে গরু-মহিষ থাকলেও এখন গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও চারণভূমি কমে যাওয়ায় গরু পালন কমে গেছে। গরু দিয়ে চাষ করলে যেমন সময় বেশি লাগে,তেমনি খরচও বেশি। পাওয়ার টিলারে অল্প সময়ে অধিক জায়গা গভীরভাবে চাষ করা যায়। তাছাড়া শ্রমিক সংকট অন্যতম সমস্যা। সময়ের স্রোতে লাঙ্গল চালানোর দক্ষ জনবল কমে যাওয়ায় লাঙ্গল এখন রূপ কথার কল্প কাহিনীতে পরিত হয়েছে।
মাটিরাঙ্গা চরপাড়ার প্রবিন কৃষক আনোয়ার বলেন, "আগে হাল চাষ একটা উৎসবের মতো ছিল। জমিতে গরু নিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটা আনন্দ ছিল। এখন মেশিনের শব্দে সেই মায়া, সেই গন্ধ আর নেই। তবে এটা ঠিক, মেশিনে কাজ দ্রুত হয়।"
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন বলেন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ কৃষকের উৎপাদন বাড়িয়েছে। সরকারও ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি দিচ্ছে। তবে গরুর গোবর সার, যা জমির উর্বরতা বাড়াতো, তার ব্যবহার কমে যাওয়ায় জমির স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবতে হবে বলে জানান তিনি।
লাঙ্গল হয়তো হারিয়ে গেছে, কিন্তু বাঙালির কৃষি ঐতিহ্যের এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে সেই গরু-লাঙ্গলের মাঠ।