
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে আসে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইসরায়েল সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন কিংবা যুদ্ধকালীন নীতিমালা মানছে না। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ নতুন করে ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২ হাজার ৮৪৬ জনে। একই সময়ে জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা আলী সাফিউদ্দিন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাজ করছি। উদ্ধার অভিযানে বের হলে ফিরে আসতে পারব কি না, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’ তিনি জানান, ইতোমধ্যে বহু সহকর্মীকে হারিয়েছেন তারা।
টায়ার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি বলেন, যুদ্ধের সময় চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে সেখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আহতদের সহায়তার জন্য ফোন করলে সাড়া দেওয়ার মতো মানুষও থাকবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজা ও লেবাননে দায়িত্ব পালন করা যুদ্ধকালীন সার্জন তাহির মোহাম্মদ বলেন, দুই অঞ্চলের পরিস্থিতির মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘গাজায় যেমন চিকিৎসাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন, লেবাননেও একই ধারা চলছে।’
এদিকে চলমান হামলার কারণে লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও গত ১৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির কথা ছিল, বাস্তবে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।