
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত অনুষ্ঠানের সময় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণের পর বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপের সন্দেহে দুই যুবককে ধাওয়া করে আটক করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে পুলিশের ভাষ্য, বিস্ফোরিত বস্তুটি ছিল উন্নতমানের একটি আতশবাজি, যা কেবল বিকট শব্দ সৃষ্টি করে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন সোনারগাঁও উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেস (৩৫) এবং ফতুল্লার গাবতলী এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান (৩৩)। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান জানান, লোকমান জাসদের এবং মোখলেস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক দুইজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ মোখলেস ও লোকমানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শহীদ মিনারে ‘জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ একটি বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, তারা নির্বিঘ্নেই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে একজনকে আটক করেন। পরে তার ফোন পেয়ে আরেকজন ঘটনাস্থলে এলে তাকেও আটক করা হয়। এরপর দুজনকেই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, বিস্ফোরিত বস্তুটি ছিল উন্নতমানের এক ধরনের আতশবাজি, যা শুধু বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এবং এতে কোনো স্প্লিন্টার থাকে না। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে এমনই একটি বস্তু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন, আটক দুজনের একজন জাসদ এবং অন্যজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওসি আরও জানান, আগামী রোববার তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়।