
নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়তেই বদলের হাওয়া লেগেছে শেয়ারবাজারে। দিনের শুরুতে নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকা বাজার পরে ঘুরে দাঁড়ায় এবং লেনদেন ও সূচকে শক্তিশালী উত্থান দেখা যায়।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৪ জুন) লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শেয়ারবাজারে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে শুরু করে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর মূল্যসূচক ঋণাত্মক অবস্থায় চলে যায়।
এই অবস্থার মধ্যেই খবর আসে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কমিশনাররা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ছিলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।
এই খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুতই চিত্র পাল্টে যায়। দাম কমার তালিকায় থাকা অনেক কোম্পানি একের পর এক দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। শেষ পর্যন্ত লেনদেনের ধারা উর্ধ্বমুখী থাকে এবং দিনের শেষে সব সূচকই বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। এর মাধ্যমে টানা নয় কার্যদিবস ধরে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে দিন শেষে ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১০৪টির এবং ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়া বা ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে, কমেছে ৪২টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ২৯টির এবং ৫টির দাম স্থির ছিল। আর লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩৩টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ১৮টির দাম বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
মূল্যসূচকের দিক থেকে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনেও বড় উত্থান দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার তুলনায় ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বেশি। এটি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন।
দিনের সর্বোচ্চ লেনদেন হয় এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারে, ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে ছিল জেনেক্স ইনফোসিস, যার লেনদেন ৩৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে নাভানা ফার্মার লেনদেন ছিল ২১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল মনোস্পুল পেপার, মুন্নু সিরামিক, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লাভেলো আইসক্রিম, যমুনা ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) উত্থান দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট বেড়েছে। ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫২টির দাম বেড়েছে, ৭৪টির কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মোট লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকার তুলনায় কিছুটা কম।
এদিকে পদত্যাগের পর বিএসইসির নতুন নেতৃত্বও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খানকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ-আল-তারিক।
নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তারা চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কর্মসম্পর্ক ছাড়তে হবে এবং বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সরকার ও তার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।