
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের কারণে ফেরি চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ায় তীব্র ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ঘাটে ‘মহানন্দা’ নামের ফেরিটি সময়মতো ছাড়তে না পারায় শত শত যাত্রী আটকে পড়ে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যার পর হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফেরি প্রস্তুত থাকলেও এমপি হান্নান মাসউদের আগমনের কারণে সেটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছাড়ে।
ফেরি সূত্র ও যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছায় ‘মহানন্দা’ ফেরি। এরপর মালামাল ওঠানামা শেষে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ফেরি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছাড়ে রাত প্রায় ৯টার দিকে। এ সময় ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহন চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, ফেরি ছাড়তে দেরির কারণ জানতে চাইলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানায়, এমপি আসার পরই ফেরি ছাড়বে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তাদের অনেকেই নাইট কোচ মিস করেন এবং জরুরি কাজে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। নারী যাত্রীরা রাতের যাত্রা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ফেরি মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, একজন সংসদ সদস্যকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিলম্ব হলেও সেটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে মোটরসাইকেল ওঠানো-নামানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলেছে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়েই তিনি ঘাটে পৌঁছান এবং সেখানেও তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফেরি চলাচলে কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত চাপ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি উপেক্ষিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।