
সরকার সংস্কারের পথে পিছিয়ে গেলে আবারও ‘চব্বিশ’ পুনর্মঞ্চায়ন করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার সকালে রাজধানীতে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কাঠামোগত (স্ট্রাকচারাল) সংস্কারের প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন জরুরি। ক্ষমতাসীন দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে পিছু হটে, তাহলে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ‘চব্বিশ’ পুনর্মঞ্চায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বর্তমান সরকার টালবাহানা করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য প্রভাব থাকতে পারে, যা সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, গুম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত থাকতে পারে।
মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন থামিয়ে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতি এড়াতে হবে, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
আলোচকেরা আরও বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপের কারণে দেশের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তারা বিচারব্যবস্থাকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানান।