
জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেকোনো মূল্যে সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা থাকলে সরকারকে সবসময় জনগণের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।
বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা এমন একটি সরকারের অধীনে কাজ করেছেন, যাদের নির্বাচিত হওয়ার কোনো দায় ছিল না। সেই সরকার দীর্ঘদিন ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে। ফলে জনগণের স্বার্থ তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যুৎ সংকট তৈরির জন্য ন্যূনতম দায়ী নয়। তবে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে বলেই প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই সরকারকে জনগণ একটি বড় বিজয় এনে দিয়েছে। সরকার যে কোনো মূল্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সময়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পরপর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে কী কাজ করা হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার কী ধরনের নীতি ও কর্মসূচি জনগণের সামনে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত থাকতে হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে। সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের ইচ্ছাকে সরকার মূল্যায়ন করবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেনি। আমাদের চেহারায় যদি শেখ হাসিনা ব্যালট পেপার দেখতো, তাহলে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে যেতো না। কারণ তার মনে হতো না একদিন জনগণের সামনে আমাকে দাঁড়াতে হবে।’
শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। খেলাধুলা, সংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা যায়—এ বিষয়টি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের শিশুরা সর্বক্ষেত্রে ভালো করবে।’ পাশাপাশি প্রচলিত সার্কাস ও যাত্রাপালার নেতিবাচক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে এসব আয়োজন আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকারসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক ও কালচারাল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।