
এক দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো রহস্যাবৃত রয়ে গেছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফের পিছিয়েছে। এ নিয়ে দেশের ইতিহাসে আলোচিত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রেকর্ড ১২৬ বারের মতো পেছানো হলো।
আদালতের নতুন নির্দেশনা
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্ত সংস্থা তা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন পেশের জন্য আগামী ১৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও টাস্কফোর্স
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে প্রদানের নির্দেশ দেন। আদালত এই কমিটিকে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানায়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল আদালত আরও ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন এবং ২২ অক্টোবর আদেশের দিন ঠিক করেন। কিন্তু উচ্চ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যেও টাস্কফোর্স তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল আদালত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন:
কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ
আবু সাঈদ
রফিকুল ইসলাম
বকুল মিয়া
মাসুম মিন্টু
পলাশ রুদ্র পাল
আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির
তানভীর রহমান খান
বর্তমানে তানভীর ও পলাশ জামিনে থাকলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক ছুঁইছুঁই সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।