
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে মারধরের ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই মামলায় আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অভিযুক্তরা ছুরি, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহমুদুল হাসানকে ধাওয়া করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে তাকে ঘিরে মারধর করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। এজিএস সালমান সাব্বিরও তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তার বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধরে অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, চারজন আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা তাকে জোর করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাহমুদুলের বাবা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন। তার দাবি, ভুক্তভোগীর বাবা আবেগের বশে মামলাটি করেছেন।
এর আগে, ২৬ জুলাই এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরদিন ২৭ জুলাই ওই ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ মামলা করা হলো।