
অধিকৃত গোলান মালভূমি সংলগ্ন সিরিয়ার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ভারী সাঁজোয়া যান ও শক্তিশালী ট্যাংক নিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ইসরায়েলি সেনাদের এই অতর্কিত তল্লাশি অভিযান স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে চরম আতঙ্ক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সানা’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিরিয়ার সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি ঘটেছে মূলত কুনেইত্রা প্রদেশের দুটি ভিন্ন সীমান্ত এলাকায়।
প্রথম ঘটনা: সাইদা আল-হানউত গ্রামে হানা
প্রথম দফায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চারটি বিশেষ সাঁজোয়া যান কুনেইত্রা প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামীণ জনপদ সাইদা আল-হানউত গ্রামে সরাসরি ঢুকে পড়ে। লোকালয়ে প্রবেশ করার পরপরই ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা বেশ কয়েকটি আবাসিক বাড়িঘর চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে আকস্মিক ও ভীতিকর এই অভিযানে কোনো সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার বা আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে বা কার খোঁজে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয় ঘটনা: আল-মুয়াল্লাকা সীমান্তে ইসরায়েলি ট্যাংকের মহড়া
এই ঘটনার কিছু সময় পরই কাছাকাছি অঞ্চলের আল-মুয়াল্লাকা গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত তেল আল-দ্রেইয়াত এলাকায় দ্বিতীয় অনুপ্রবেশের ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ইসরায়েলের তিনটি শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক সামরিক ট্যাংক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে সিরিয়ার ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। ট্যাংকগুলো ওই সংবেদনশীল এলাকায় বেশ কিছু সময় অবস্থান নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো ধরনের বড় সংঘাত, রক্তক্ষয় বা গোলাগুলির ঘটনা ছাড়াই পরবর্তী সময়ে ট্যাংকগুলো পুনরায় সীমান্ত পেরিয়ে নিজেদের পূর্বের অবস্থানে পিছু হটে যায়।
সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলান মালভূমি সংলগ্ন এই সীমান্ত অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বারুদঠাসা। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক মুভমেন্ট সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই আকস্মিক প্রবেশ কোনো নিয়মিত নজরদারির অংশ নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অপারেশন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে তাদের দেশের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ কড়া নজরদারি জারি রেখেছে সিরীয় ফৌজ।