
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও একধাপ সংঘাতের দিকে মোড় নিল। সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (স্পেশাল অপারেশনস) কমান্ড সেন্টারে সরাসরি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এরপরই চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিশোধ হিসেবে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপর্যুপরি হামলায় অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর এক প্রতিবেদনে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, সম্প্রতি ইরানের ইরানশহর এলাকায় তাদের সেনা সদস্যদের হত্যার সরাসরি জবাব দিতেই সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি
আল-তানফে হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের অভ্যন্তরে তাদের হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই পথ দিয়ে সমস্ত ধরনের তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরানে মার্কিন বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা
এদিকে, সিরিয়ার ঘাঁটিতে হামলার জবাব দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর এবং ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু লক্ষ্য করে উপর্যুপরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও ইরানশহরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
একই দিন হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের নিকটবর্তী দুটি সেতুতে মার্কিন বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় আরও ৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন বলে আইআরআইবি নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, হরমোজগানের কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে অন্তত চারটি বিকট বিস্ফোরণ এবং সিরিক শহরে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যমগুলো।