
আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও পাঁচটি সীমান্ত চৌকি দখল করে সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এই পদক্ষেপ সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যদিও এতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে সীমান্ত চৌকি দখল ও পতাকা উত্তোলনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনা নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করেছে। সীমান্ত এলাকা ইতিমধ্যেই অস্থির থাকার কারণে এই অভিযান বিশেষভাবে নজরকাড়া।
সেনা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আফগান তালেবান বাহিনীর ‘বিনা উসকানিতে আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। নতুনভাবে দখলকৃত চৌকিগুলো দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের বিপরীতে অবস্থিত। এই পদক্ষেপ পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে নিরাপত্তার ভারসাম্যকে পরিবর্তন করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দখলকৃত পাঁচটি চৌকির মধ্যে দুটি শাওয়ালের বিপরীতে, দুটি আঙ্গুর আড্ডার সামনে এবং একটি জারমালানের মুখোমুখি অবস্থান করছে। এই অঞ্চলগুলো কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি চলাচল ও সীমান্ত বিরোধের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
পাকিস্তানি সেনা বলছে, এই অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে এবং অনুপ্রবেশের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তে বাস্তব অবস্থান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অবস্থানের পক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে।
অভিযানের সময় আঙ্গুর আড্ডার আফগান টার্মিনালও ধ্বংস করা হয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে ‘বৈরী অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, পাকিস্তানের ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ সামরিক জবাবের ফলে আফগান তালেবান যোদ্ধাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুরো অভিযানের বিস্তারিত নিয়ে আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আশপাশের এলাকায় অভিযান এখনও চলমান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বৃহত্তর অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাকিস্তানের পক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, সীমান্ত জুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে এবং বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ভঙ্গুর প্রকৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংলাপই দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাত এড়ানোর একমাত্র কার্যকর উপায়। আপাতত দখলকৃত চৌকিগুলোতে উত্তোলিত পতাকা সীমান্তে নতুন সংকটের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।