
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া রক্ষা এবং নদীর চরে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘লংমার্চ ফর ফরেস্ট’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ৩০ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রীন কোয়ালিশন ও শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলার নীলডুমুর এলাকা থেকে শুরু হয়ে লংমার্চটি বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন গ্রীন কোয়ালিশন জেলা সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দিন সিদ্দীকি। লংমার্চ শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি সাধারণ বন নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত একটি প্রাকৃতিক আশ্রয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বন সবসময় ঢাল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
স্মারকলিপিতে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেন, সুন্দরবনের নদীতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বনজ বীজগুলো মূলত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে। তবে শ্যামনগর উপজেলার নদীবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী থেকে ভেসে আসা এসব বনজ ফল ও বীজ সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। নির্বিচারে এই বীজ সংগ্রহের ফলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গাছ জন্মানোর সুযোগ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে, যা সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুনর্জন্মকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি বীজের স্বাভাবিক বিকাশ বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, বরং তা দীর্ঘমেয়াদে বনপ্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
সংকট উত্তরণে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ অবিলম্বে বন্ধ করা; বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা, সিপিজি, ডিসিটি, ভিটিআরটি ও ভিসিএফ সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করা; জনসচেতনতা তৈরিতে আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম চালু রাখা এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ ও যুব সমাজকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।
উক্ত কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সাতক্ষীরা নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন, মানবজমিনের শ্যামনগর প্রতিনিধি জাহিদ সুমন, আমাদের সময়ের শ্যামনগর প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, পত্রদুতের উপকূলীয় প্রতিনিধি আব্দুল হালিম, বনজীবী নারী নেত্রী শেফালী বিবি, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, স ম ওসমান গনী ও জান্নাতুল নাঈমসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।