
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে এমন দাবিকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুধুমাত্র বার্তা আদান-প্রদান চলছে, কিন্তু কোনও আলোচনার সূচনা হয়নি।
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “মার্কিনিরা তো নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিল, এখন তারা আবার কেন আলোচনার কথা তুলছে?”
তিনি আরও জানান, “এই মুহূর্তে আমাদের নীতি হলো প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। আলোচনা কিংবা সংলাপের কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই; এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি এবং আমি বিশ্বাস করে যে আমাদের অবস্থান নৈতিক।”
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার ইরানের সঙ্গে সংলাপের কথা উল্লেখ করেছেন। ২৪ মার্চ বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না করে, তাহলে দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ফলাফল এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক।
কিন্তু বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আলোচনায় ব্যস্ত হওয়া মানে পরাজয় স্বীকার করা। “যারা আলোচনার কথা তুলছে, তারা আসলে একভাবে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে,” তিনি বলেন।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাঠানো ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের কাছে পৌঁছেছে। সরকারের নেতৃত্ব বিভিন্ন মিত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবটি নিয়ে বার্তা বিনিময় করছে।
আরাগচি বলেন, “প্রস্তাবটি বিভিন্ন আইডিয়াতে পরিপূর্ণ এবং সেটির পয়েন্টগুলো সরকারি নেতৃত্ব যাচাই ও পর্যালোচনা করছেন। যদি এ ইস্যুতে কোনো অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজন হয়ে, তাহলে অবশ্যই তা নেওয়া হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে এটি নিয়ে বার্তার আদান-প্রদানও চলছে, কিন্তু এ বার্তা বিনিময়কে কোনোভাবেই সংলাপ কিংবা আলোচনা বলা চলে না।”
তিনি আরও বলেছেন, যুদ্ধের পর ইরান হয়তো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারবে। কিন্তু তেহরান ইতোমধ্যেই যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
আরাগচি বলেন, “এ যুদ্ধে আমরা দেখিয়েছি যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উসকানি দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বস্তুত আমরা নিজেদের জন্য এমন একটি নিরাপত্তা ঢাল তৈরি করেছি যে গোটা বিশ্ব ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বার্থ নিয়ে খেলাধুলা করার ফলাফল খুব গুরুতর হয়।”
সূত্র: সিএনএন