
সৌদি আরবের ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে সামনে রেখে নির্মাণের পরিকল্পনা করা একটি বড় স্টেডিয়ামের কাজ স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণের কথা থাকা এই স্টেডিয়ামটি দেশটির উচ্চাভিলাষী নিওম প্রকল্পের অংশ ছিল।
নির্মাণ খাতের তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম মিড প্রজেক্টস প্রকল্পটিকে ‘স্থগিত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে আবার কবে নির্মাণকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
৩৫০ মিটার ওপরে হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামটি মাটি থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার ওপরে নির্মাণের কথা ছিল। ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ নিওম প্রকল্পের ভেতরে ‘দ্য লাইন’-এর অংশ হিসেবে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে সৌদি আরব ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যু পরিকল্পনা প্রকাশ করে। সেখানে পাঁচটি শহরে মোট ১৫টি স্টেডিয়াম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলোর একটি ছিল নিওমের এই স্টেডিয়াম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৪৬ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবকে ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত করে ফিফা। ওই আসরে ৪৮টি দল অংশ নেবে। এর আগে কোনো একক দেশে এত বড় পরিসরে বিশ্বকাপ আয়োজন হয়নি।
‘দ্য লাইন’ নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামের নির্মাণ স্থগিত হওয়ার খবর সামনে আসার পর নিওমের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘দ্য লাইন’ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রকল্প এটি।
নিওমের মালিকানা সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ)। সংস্থাটির গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান গত এপ্রিলে জানিয়েছিলেন, ২০৩০ সালের আগে ‘দ্য লাইন’ আর অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। তবে তখন তিনি প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা দেননি।
অন্যদিকে সৌদি আরবের ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ কাজ ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। নিজেদের দাবির সমর্থনে তারা অন্যান্য স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের ছবিও প্রকাশ করেছে।
ব্যয়বহুল প্রকল্প থেকে সরে দ্রুত আয়ের দিকে পিআইএফ
সৌদির বড় প্রকল্পগুলোতে ধীরগতি বা স্থগিতাদেশের ঘটনা নতুন নয়। কয়েক মাস আগে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা এলাকায় প্রস্তাবিত ‘দ্য মুকাব’ প্রকল্পের কাজও থেমে যায়। বিশাল ঘনক আকৃতির এই আকাশচুম্বী ভবনটিকে পুরো এলাকার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।
সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পিআইএফ কিছু অতিব্যয়বহুল মেগা প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে তুলনামূলক দ্রুত আয় দিতে পারে—এমন বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমন সিদ্ধান্তের সময় সৌদি আরব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপের মধ্যেও রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দেশটির জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথিরাও সৌদি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার হুথিরা রিয়াদে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি স্থাপনার কাছে হামলা চালানোর দাবি করে। এক প্রত্যক্ষদর্শী সেখানে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানি তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
তেলের কার্যক্রমে ধাক্কার প্রভাব সৌদি অর্থনীতিতেও পড়ছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছর বাজেট ঘাটতির আশঙ্কা করছে। একই সঙ্গে প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনায় ২০৩৪ বিশ্বকাপ এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবকে ফিফা এর আগে ‘একদম অবিশ্বাস্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।