
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে গোপনে। এমন পরিস্থিতে প্রভাবশালী ৪ মুসলিম রাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশে পাকিস্থানে আয়োজিত এক বৈঠকে অংশ নিতে চলেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের সম্পৃক্ততা—যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে। এ সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারণই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতির খবর। একটি মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এমন অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও জটিল ও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, পেন্টাগন ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। এ পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে আকস্মিক হামলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ ধরনের কোনো সামরিক মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অভিযানটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বা দখল নয়; বরং বিশেষ বাহিনী ও প্রচলিত পদাতিক ইউনিটের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার জোর দিয়ে বলেন, ‘স্থল সৈন্য ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম।’ তবে ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই সামরিক পরিকল্পনা এখন বেশ অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।