
বৃহস্পতিবার কুমিল্লায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকা জুড়ে। শোকে স্তব্ধ আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই।
ঈদের ছুটি শেষ করে মাইক্রোবাসে করে পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন মুফতি আব্দুল মমিন। কুমিল্লা মিয়ামি হোটেলে যাত্রাবিরতি শেষে হাইওয়ে সড়কে উঠার সাথে সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা স্টার লাইন বাস তাদের মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে টেনে আধা কিলোমিটার নিয়ে যায়। এতে মাইক্রোবাসের ড্রাইভারসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় বেঁচে ফেরা মুফতি আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার আহত অবস্থায় রয়েছেন হাসপাতালে।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও তিনি পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চর শাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি এলাকায় থাকতেন।
একটি দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের পুরো স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে। সড়কেই শেষ একটি পরিবারের পুরো গল্প। ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকার কর্মস্থলে ফেরার পরিবর্তে পুরো পরিবার এখন না ফেরার দেশে। এইভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মুফতি আব্দুল মমিনের পুরো পরিবার এখন শুধু স্মৃতি।
নিহতরা হলেন - নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার ছাতারপাইয়া গ্রামের মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), মুফতি আব্দুল মমিনের স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইদ আশরাদ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেন (৫২)। চালকের বাড়ি বরিশাল জেলায়। দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আব্দুল মমিনের ছেলে আবরার (১২) ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিন জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে চারজনই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ঘটনায় পরিবারের আরেক সদস্য আবরার আহত হলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় বড় ছেলে হুজাইফা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
একই পরিবারের চারজনের জানাজা শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চর শাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে একই সাথে দাফন করা হয়।
এদিকে নিহতের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করলে তারা সরকারি সহায়তা পাবে। এখন তাদের দাফনের জন্য কিছু সহায়তা করা হয়েছে। তিনি দুর্ঘটনা রোধে সকলকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।