
হাঙ্গেরিতে আজ রোববার (১১ এপ্রিল) জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মধ্যে এই ভোটকে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে ইউরোপ, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি এখন বুদাপেস্টে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ওরবানের ক্ষমতাসীন ফিদেজ দল নতুন মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী দল তিসা এবং তার নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে তিসার জনপ্রিয়তা প্রায় ৩৮ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে থাকায় ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ওরবান দীর্ঘদিন ধরে ‘অ-উদার গণতন্ত্র’ ধারণা নিয়ে দেশ পরিচালনা করে আসছেন। তবে তার শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং সংখ্যালঘু অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তার রাশিয়া ঘনিষ্ঠ অবস্থানও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী প্রচারে ওরবান ভোটকে ‘যুদ্ধ ও শান্তির’ মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে হাঙ্গেরি ইউক্রেন সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পিটার ম্যাগিয়ার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই নির্বাচন মূলত দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের প্রশ্ন।
অর্থনৈতিক চাপও ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একাংশ মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে ওরবান সরকার তরুণদের জন্য কর ছাড়, আবাসন ভর্তুকি এবং আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করলেও তা পুরোপুরি জনঅসন্তোষ কমাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে সীমিত প্রভাব ফেলেছে।
ভোটকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বিপুল সংখ্যক অনির্ধারিত ভোটার, নির্বাচনী মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন এবং প্রবাসী হাঙ্গেরীয়দের ভোটকে কেন্দ্র করে, যারা সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের পক্ষেই ঝুঁকে থাকেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফলাফল ফিদেজের টানা ক্ষমতা ধরে রাখা থেকে শুরু করে তিসার বড় জয় পর্যন্ত যেকোনো দিকে যেতে পারে। তবে বিরোধীরা জিতলেও ওরবানের দীর্ঘ শাসনামলে তৈরি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পরিবর্তন করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।