
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বা নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রয়াত ওসমান হাদির সঙ্গে ঘাতক ফয়সাল করিম মাসুদের রহস্যময় সখ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
গত বুধবার (৩ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের অন্তরালের সমীকরণ নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
উক্ত ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের লিখেছেন, "ওসমান হাদি ভাই খুন হওয়ার পর থেকেই একটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে হাদির পরিচয় কীভাবে হলো, মাত্র কয়েকমাস আগে অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়া আসামি মাসুদ কার থ্রু-তে (মাধ্যমে) হাদির এতো কাছাকাছি এলো?"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে হাদি ভাইয়ের সঙ্গে তাদের প্রাণবন্ত আলোচনা, একাধিক সময় তার নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণ- এতোটা ক্লোজলি এনগেইজ করার পেছনে তো কেউ না কেউ হাদি ভাইকে তাদের ব্যাপারে অভয় দিয়েছেন, তাই না?"
কাদের তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরপরই দেশের মূলধারার জাতীয় দৈনিকগুলো জুমা-জাবের ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই রহস্যময় পরিচয়ের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু রহস্যজনকভাবে তারা এ বিষয়ে তখন কোনো মন্তব্য করেননি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে কাদের আরও লেখেন, "আমার ক্ষেত্রেই বলি, ৫ আগস্টের পরে আমার আস্থাভাজন মানুষদের রিকমেন্ডেশনে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়েছে, কাছাকাছি থেকেছে তারা। হাদি ভাইয়ের ক্ষেত্রেও তো স্বাভাবিকভাবে তা-ই হওয়ার কথা। তাছাড়া ঘটনার আগে অনেকেই নাকি তাকে সতর্ক করেছিল, সেই বিবেচনায় তো তিনি এসব ক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করার কথা।"
হাদি হত্যাকাণ্ডের জট খোলার তাগিদ দিয়ে নিজের পোস্টের শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে লেখেন, "যাই হোক, জুমা-জাবের ভাই কিংবা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে এবার মুখ খোলা উচিত। এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক কিছু খোলাসা হবে।"
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঠিক আগমুহূর্তে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় অতর্কিতভাবে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা জুলাই বিপ্লবের এই সম্মুখ সারির সংগঠককে বাঁচাতে পারেননি।